Bangladeshi vaccine.
#প্রাণীদেহে_সফলতা_বাংলাদেশের_প্রতিষেধকের_এবং_বাংগালীর_পরশ্রীকাতরতা
বাংলাদেশে বিজ্ঞানীরা সবথেকে অবহেলিত। অন্যের সাফল্য আসুক না আসুক তাকে বাজে ভাষায় গালি দিয়ে পেছনে টেনে নামানোর মানুষের অভাব নেই। কিন্তু উৎসাহ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দোয়া করার মানুষের অনেক অভাব।
বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের আমরা চিনিনা। কিন্তু অন্য দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে বিস্তর লিখে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা মানুষের অভাব নেই। এদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলা এখন শুধু ঔষধ তৈরি নয় বরং গবেষণায় বিনিয়োগ করছে। সাফল্য ধরে নিলাম আসবেনা। তাই বলে কি তাদেরকে আমরা অশ্রাব্য ভাষায় তিরস্কার করব? বিশেষ করে যারা যারা একটু ভাল করে বিদেশে নামিদামি কোম্পানিতে রয়েছে তাদের যেন সহ্য হয়না এদেশে কিছু হোক।
গ্লোব বায়োটেক সাহস দেখিয়েছে। বাংলার মাটিতে তারা হয়ত কিছু একটা করবার চেষ্টা করেছে। এতে আপনাদের এত জ্বলে কেন? ধরে নিলাম তারা সফল হবেনা। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টাগুলিকে এভাবেই আমরা কবর দিব?
গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড ২০১৫ সালে ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস, রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, অটোইমিউন ডিজিজসহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগ নিরাময়ের জন্য বায়োলজিক্স, নভেল ড্রাগ এবং বায়োসিমিলার উৎপাদনের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। শুধু গ্লোব নয়। অনেক কোম্পানির গবেষনাগার এখন উন্নত বিশ্বের মত সমৃদ্ধ। এটুকু স্বীকার না করুন অন্তত এদের সাফল্যে ঈর্ষাকারত হয়ে অশ্রাব্য ভাষা ব্যাবহার করবেন না।
গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবিত প্রতিষেধক প্রাণী দেহে মহামারী প্রতিরোধে ইমিউন রেসপন্স আনতে সক্ষম হয়েছে। এটুকু সফলতা আমাদের জন্য কম কিসে? আজ এই সফলতাটুকু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যায়ল পেলে বিশ্বাস করুন এদেশের মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করত। আপনারা যারা গালি দিচ্ছেন তারা শেয়ার করে বলতেন বাংলাদেশে এরকম কিছুই হয়না। কি বলতেন না? অক্সফোর্ড এর প্রতিষেধক এখন ট্রায়াল বন্ধ। সফল হবে কিনা অনিশ্চিত। কথা হল আমরা আমাদের মত করে চেষ্টা করেছি। শুকরিয়া করুন। দোয়া করুন। আপনার আমার দোয়া রহমত হিসাবে এদেশের বিজ্ঞানীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
সারা বছর আপনারা ব্যাস্ত থাকেন মিন্নি মুরগির মাংশ দিয়ে ভাত খেয়েছে এসব নিউজ পড়ে। আর গ্লোব বায়োটেকের এই ছোট্ট প্রয়াসের ক্ষেত্রে আপনারা হয়ে যান বড় বড় বিজ্ঞানী।
মহামারীর টিকা উন্নয়নে সাফল্যের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে বাংলাদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান- গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত বিশ্বে এই প্রথম ডি ৬১৪জি ভ্যারিয়েনটস এমআরএনএ ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘ব্যানকোভিড’ মহামারী প্রতিরোধে প্রাণীদেহে সক্ষমতা পেয়েছে।
এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে প্রতিষেধকের প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।
সম্প্রতি প্রাণিদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা জানান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার মানদণ্ডে শতভাগ উৎরে গেছে টিকাটি। তারপরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে গবেষণার জন্য পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত গবেষণা কেন্দ্রে প্রাণিদেহের ওপর প্রথম ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। এরপর গবেষণার বাকি কাজ করা হয় রাজধানীর তেজগাঁও ল্যাবে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড’ গবেষণার পাশাপাশি মহামারী ‘শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ’ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণাও শুরু করেছে তারা।
এর কোনটাই আপনি করেন নি। ভাবেননি। চেষ্টা করেন নি। দয়া করে কেউ চেষ্টা করলে তাকে এপ্রিশিয়েট করা শিখুন। সভ্য হোন।
ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের সফলতা দিবেন। ধৈর্য্য ধরার তৌফিক দিন সকলকে।



Comments
Post a Comment